আবীর মোঃ মুমিত
নভেম্বর / ২৮ / ২০২২
আবীর মোঃ মুমিত : চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। এবার পাসের হার ৮৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ।
আজ দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ফলাফলের কপি হস্তান্তর করা হয়।
এরপর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত ফলাফল তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপুমনি।
চলতি বছরে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি পরীক্ষার হার ৮৮ দশমিক ১০ শতাংশ। মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডসহ সকল বোর্ডের এসএসসি, এসএসসি (কারিগরি) ও দাখিল পরীক্ষার পাসের হার ৮৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ। এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ লাখ ৬৯ হাজার ৬০২ পরীক্ষার্থী।
দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষাবোর্ড, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাবোর্ড মিলে গত বছর এসএসসিতে পাসের হার ৯৩ দশমিক ৫৮ শতাংশ ছিল। এসএসসি ও সমমানে পাসের হার ৮৭.৪৪ শতাংশ
প্রকাশিত ফলাফলে ৯টি সাধারণ শিক্ষাবোর্ডে গড় পাসের হার ৮৮ দশমিক ১০ শতাংশ। মাদ্রাসা বোর্ডে পাসের হার ৮২ দশমিক ২২ শতাংশ, কারিগরি শিক্ষাবোর্ডে পাসের হার ৮৪. ৭ শতাংশ।
এবার ঢাকা বোর্ডে পাসের হার ৯০ দশমিক ০৩ শতাংশ, ময়মনসিংহে ৮৬ দশমিক ৭ শতাংশ, রাজশাহীতে ৮৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ, কুমিল্লায় ৯১ দশমিক ২৮ শতাংশ, বরিশালে ৮৯ দশমিক ৬১ শতাংশ, সিলেটে ৭৮ দশমিক ৮২ শতাংশ চট্টগ্রামে ৮৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ, যশোরে ৯৫ দশমিক ০৩ শতাংশ দিনাজপুরে ৮১ দশমিক ১৪ শতাংশ।
এ বছর ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে ১৯ লাখ ৯৪ হাজার ১৩৭ জন। মোট ৩ হাজার ৭৮৯টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে শুধু সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর অধীনে এসএসসি পরীক্ষার্থী ১৫ লাখ ৮৮ হাজার ৬৫৭ জন।
শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত মহওয়ার পর ৫৮তম দিনে ফল প্রকাশ করা হলো।
তিনি বলেন, প্রতি বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে শুরু হয়ে থাকলেও গত দুই বছর ধরে কোভিড-১৯ জনিত বৈশ্বিক মহামারির প্রার্দুভাবের কারণে যথাসময়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে পারেনি। এ বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ১৯ জুন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সিলেট বিভাগসহ ময়মনসিংহ অঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলের কিছু জেলাতে আকষ্মিক বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হলে- পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত করে দেওয়া হয়।
সিলেট শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার কমলেও বেড়েছে জিপিএ-৫। এবার পাসের হার ৭৮ দশমিক ৮২ শতাংশ। যা গত বছর ছিল ৯৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ। ফলে পাসের হার কমেছে ১৭ দশমিক ৯৬ শতাংশ।
বোর্ডের মধ্যে সব্বোর্চ জিপিএ-৫ পেয়েছে সিলেট, গত বছরের চেয়ে এবার জিপিএ-৫ এর সংখ্যা বেড়েছে ২ হাজার ৭৩১ জন। এবার রেকর্ড সংখ্যক শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। ৭ হাজার ৫৬৫ জন জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের মধ্যে ছেলে শিক্ষার্থী ৩ হাজার ২৫৪ জন ও মেয়ে শিক্ষার্থী ৪ হাজার ৩১১ জন। এর মধ্যে সব্বোর্চ সিলেট জেলার ৩ হাজার ৫৯৮ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। এদের মধ্যে মৌলভীবাজার ১ হাজার ৬৫৬ জন, হবিগঞ্জ ১ হাজার ৩৪৩ জন ও সুনামগঞ্জে ৯৬৮ জন।