পুণ্যভূমি ডেস্ক
অক্টোবর / ১৯ / ২০২২
সিলেটের ওসমানীনগরে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার হওয়া প্রবাসী রফিকুল ইসলামসহ পরিবারের ৩ সদস্য মারা যাওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন তার স্ত্রী হুসনে আরা বেগম (৪৫)। মঙ্গলবার দিনগত রাতে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এর আগে গত ২৫ জুলাই অচেতন অবস্থায় ৫ প্রবাসীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে ব্রিটিশ নাগরিক রফিকুল ইসলাম ও তার ছোট ছেলে মাইকুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন ওসমানী মেডিকেল হাসাতালের দ্বায়িত্বরত চিকিৎসক। স্ত্রী হুসনে আরা বেগম, বড় ছেলে সাদিকুল ইসলাম ও একমাত্র মেয়ে সামিরা ইসলামকে হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগে ভর্তি করা হয়। ঘটনার ১১ দিন পর হাসপাতালের আইসিইউতে সামিরা ইসলাম মারা যায়। ৩ মাস পর সামিরার মা হুসনে আরা বেগমও চলে গেলেন না ফিরার দেশে। হুসনে আরা বেগমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার ভাই গোলাম মোস্তফা এবং ওসমানীনগর থানার ওসি এস এম মাইন উদ্দিন।
ঘটনার পর পুলিশের ধারনা, ঘটনার রাতে দীর্ঘসময় জেনারেটর চালু থাকায় শ্বাস প্রশ্বাস নিতে না পেরে দমবন্ধ হয়ে যুক্তরাজ্য প্রবাসী রফিকুল ইসলাম ও তার ছেলে মাইকুল ইসলাম মারা যান। অচেতন হয়ে পড়েন স্ত্রী ও অপর এক ছেলে সাদিকুল ইসলাম ও একমাত্র মেয়ে সামিরা ইসলাম। জেনারেটরের ধোঁয়ায় কী ধরণের বিষক্রিয়ার সৃষ্টি হতে পারে তা নিশ্চিতে ফায়ার সার্ভিসের কাছে আলামত এছাড়া ওই রাতে গ্রহণ করা খাবারের রাসায়নিক পরীক্ষায় পাঠানো হয়।
৩ আগস্ট হুসনে আরা ও সাদিকুল ইসলামের শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হওয়ায় হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হলে মা-ছেলে পুনরায় তাজপুরের ভাড়া বাসায় উঠেন। ওই দিন বাসায় ফেরার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান সিলেটের তৎকালিন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন।
পরবর্তীতে ২৩ আগস্ট নিজ কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে তৎকালিন সিলেট পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন জানিয়েছিলেন, যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাবা, ছেলে ও মেয়ে ‘অক্সিজেন-স্বল্পতায়’ মারা গেছেন। মেডিকেল বোর্ডের দেওয়া প্রতিবেদনের তথ্য পর্যালোচনা করে মৃত্যুর কারণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছিলেন তিনি।
এদিকে, হুসনে আরা বেগম পুত্র সাদিকুল ইসলামকে নিয়ে ওই বাসায় না থেকে উপজেলার বড় ধিরারাই গ্রামে নিজের পিত্রালয়ে কিছুদিন থাকার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে।স্বজনরা ভোরের কাগজের প্রতিবেদকে জানান পরে তারা হুসনে আরা বেগমকে রাজধানীর একটি বেসরকারী হাসপাতালে ভর্তি করেন । সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃতুবরণ করেন হুসনে আরা।
উলেখ্য, গত ১২ জুলাই যুক্তরাজ্য প্রবাসী রফিকুল ইসলাম পরিবারের ৫ সদস্যদের নিয়ে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরেন। ঢাকায় এক সপ্তাহ থেকে বড় ছেলে সাদিকুলের চিকিৎসা শেষে ১৮ জুলাই তাজপুর স্কুল রোডস্থ ৪ তলা বাসার দুতলায় বাড়াটিয়া হিসেবে উঠেন। ২৫ জুলাই রাতের খাবার খেয়ে স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলেদের নিয়ে বাসার একটি কক্ষে রফিকুল এবং অপর দুটি কক্ষে শ্বশুর, শাশুড়ি, শ্যালক, শ্যালকের স্ত্রী ও শ্যালকের মেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে ডাকাডাকি করে রফিকুলদের কোন সাড়া না পেয়ে ‘৯৯৯’ নাম্বারে ফোন দেন রফিকুলের শ্যালক দিলওয়ার। দুপুর ১২টার দিকে ওসমানীনগর থানা পুলিশ দরজা ভেঙ্গে অচেতন অবস্থায় ৫ প্রবাসীকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা রফিকুল ইসলাম ও তার ছোট ছেলে মাইকুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্ত্রী হুসনেআরা, বড় ছেলে সাদিকুল ইসলাম ও একমাত্র মেয়ে সামিরা ইসলামকে হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগে ভর্তি করা হয়। ১১দিন সজ্ঞাহীন অবস্থায় লাইিফসাপোর্টে থাকা সামিরাও মারা যায়। রফিকুলের স্ত্রী হুসনে আরা ও ছেলে সাদিককুল বাড়ি ফিরলেও ৩ মাস পর হুসনে আরাও চলে গেলেন না ফেরার দেশে।