বিজ্ঞপ্তি
মার্চ / ২৮ / ২০২৬
সিলেটের লাক্কাতুরা চা-বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক ছিলেন সৈয়দ সিরাজুল আব্দাল। মে মাসের এক সকালে তাঁকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। আর কোনো দিন ফেরেননি তিনি। তাঁকে নির্মম নির্যাতন করে হত্যা করা হয় সিলেট ক্যাডেট কলেজ সংলগ্ন বধ্যভূমিতে। বর্তমানে যা শহীদ স্মৃতি উদ্যান নামে পরিচিত। যেখানে প্রতিটি শহীদের নামে রয়েছে পৃথক পৃথক এপিটাফ।
মামা শহীদ সৈয়দ সিরাজুল আব্দাল-এর এপিটাফ সামনে রেখে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করেন প্রবাসী সাংবাদিক ও কবি শামীম আজাদ।
মুক্তিযোদ্ধা সাইফ উদ্দিন চৌধুরী সুফি গ্রামে আসলেন। গোলাপগঞ্জ থানার বাঘা গ্রাম। গ্রামের দুই যুবক ফারুক আর জলিল। তাদের নিয়ে ভারতের পথে রওয়ানা দিলেন। রাজাকারদের হাতে ধরা পড়লেন গ্রামের তিন সদ্য কৈশোর পেরুনো তরুণ। সিলেট ক্যাডেট কলেজে বন্দি অবস্থায় তাদের নির্যাতন করা হয়। সুফিকে হত্যা করে পাক হানাদার বাহিনী। শহীদ সুফির এপিটাফের সামনে নিরবে বসে থাকেন তিন ভাগ্নি হুসনা বেগম, হাসিনা বেগম, কাজী তাসলিমা সায়েরা ও ভাতৃস্পুত্র আব্দুল করিম কিম।
স্বাধীনতা যুদ্ধে বর্তমান সিলেট ক্যাডট কলেজে ক্যাম্প গড়েছিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনী।
সেই ক্যাম্পে মুক্তিযোদ্ধাসহ বাঙালিদের ধরে এনে হত্যা ও নির্যাতন করা হতো। দুই শতাধিক ব্যক্তিকে ক্যাডেট কলেজের পেছনে গণকবর দেওয়া হয়। যা সবার কাছে ক্যাডেট কলেজের বধ্যভূমি নামে পরিচিত ছিল। সংরক্ষিত এলাকায় অবস্থিত এই বধ্যভূমিতে সর্বসাধারণের প্রবেশ সহজ ছিল না।
বায়ান্ন বছর পর ২০২৩ সালের ৩রা মার্চ এই বধ্যভূমিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল (অব) মোহাম্মদ আব্দুস সালাম বীর প্রতীক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. জিয়াউদ্দিন আহমদের উদ্যোগে গড়ে উঠে নান্দনিক স্থাপত্যের 'স্বাধীনতার শহিদ স্মৃতি উদ্যান'। সেই স্মৃতি উদ্যানে আজ (বৃহস্পতিবার) মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করে সিলেটের বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন। শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ, জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ ও স্বাধীনতার কবিতা পাঠে অংশগ্রহণ করেন বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ।
পাঁচটি সবুজ পাপড়ি, মধ্যখানে লাল বৃত্ত। 'বিজয়ফুল'। প্রবাসী সাংবাদিক কবি শামীম আজাদের সংগঠন ‘বিজয় ফুল’ আয়োজন করে স্বাধীনতার কবিতা পাঠ ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণের।
বিকাল ৫টায় শহীদ স্মৃতি উদ্যানে আয়োজিত কবিতা পাঠের আসরে সভাপতিত্ব করেন কবি শামীম আজাদ। কবিতা পাঠ করেন মাসুদা সিদ্দিকা রুহি, রওশন আরা বাঁশি, নাসিমা চৌধুরী মিলি, মুক্তা চৌধুর্রী, কবি ধ্রুব গৌতম প্রমুখ। এ সময় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করেন কবি শামীমা আজাদ, ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)র কেন্দ্রীয় আহবায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য ফাদার জোসেফ গোমেজ, ধরা-সিলেট শাখার আহবায়ক ও পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্ট, সিলেটের ট্রাস্ট্রি ডাঃ মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী, সিলেট জেলা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভানেত্রী হাসিনা বেগম প্রমুখ।
শহীদ স্মৃতি উদ্যানে বিভিন্ন সামাজিক ও নাগরিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়। বিকাল ৪টায় কিডনি ফাউন্ডেশন-সিলেট, ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)-সিলেট শাখা, পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্ট, সিলেট ও জালালাবাদ ইনার হুইল ক্লাবের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়। কবি শামীম আজাদের নেতৃত্বে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ধরার কেন্দ্রীয় আহবায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য ফাদার জোসেফ গোমেজ, ধরা-সিলেট শাখার আহবায়ক ডাঃ মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী ও সদস্য সচিব আব্দুল করিম কিম, সচেতন নাগরিক কমিটি-সিলেটের সভানেত্রী আডভোকেট সৈয়দা শিরিন আখতার, কিডনি ফাউন্ডেশনের সমন্বয়ক ফরিদা নাসরিন, সিলেট জেলা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভানেত্রী হাসিনা বেগম, পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্ট, সিলেট-এর ট্রাস্টি সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবি সুদীপ্ত অর্জুন, গোলাম সোবহান চৌধুরী (দীপন) ও রেজাউল কিবরিয়া লিমন, সামাজিক সংগঠক অরুপ শ্যাম বাপ্পি, সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-র সহযোগী অধ্যাপক প্রণব কান্তি দেব, অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা পপি ও জাকিয়া সুলতানা, সাংস্কৃতিক সংগঠক মুক্তা চৌধুরী, পরিবেশকর্মী রোমেনা রোজী, কাজী তাসলিমা সায়েরা, সোহাগ তাজুল আমিন, আব্দুর রহমান হীরা, সমাজকর্মী মাসুমা চৌধুরী রুমি, নাট্যকর্মী নাহিদ পারভেজ বাবু প্রমুখ।