পুণ্যভূমি ডেক্স
এপ্রিল / ৩০ / ২০২৬
হাওরে ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল, এবার সুনামগঞ্জের আরেক বাঁধে ভাঙন, নেত্রকোনা-মৌলভীবাজারের বিভিন্ন হাওরে তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ জমির বোরো ধান।
গত ২৪ ঘন্টায় টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের চাপে সুনামগঞ্জের জিনারিয়া হাওর রক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে পানি ঢুকে বিস্তীর্ণ এলাকার বোরো ধানখেত তলিয়ে গেছে।
মৌলভীবাজারের জুড়ীতে হাকালুকি হাওরে ডুবছে কৃষকের স্বপ্ন, তলিয়ে গেছে পাকা বোরো ধান। নেত্রকোনা জেলার বিভিন্ন হাওরে হাজার হাজার হেক্টর জমির বোরো ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে ধান কাটার কথা বলা হচ্ছে। অনেক স্থানে আধাপাকা ধান কাটছেন কৃষকেরা। কিন্তু অধিকাংশ হাওরেই এখনো প্রায় অর্ধেক বোরো ধান পানিতে তলিয়ে আছে। এতে চরম উদ্বেগ-উত্কণ্ঠায় রয়েছেন হাওরপাড়ের কৃষক।
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের চাপে বুধবার সকালে সুনামগঞ্জের বোলাই নদীর পাশের একটি খালের বাঁধ ভেঙে যায়। এতে পানি ঢুকে জিনারিয়া হাওরের ফসলি জমি তলিয়ে যায়। হাওরের অধিকাংশ জমিতেই জিরাতি করতে আসা কৃষকেরা চাষাবাদ করে থাকেন। হঠাত্ এ বিপর্যয়ে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। মুখশেদপুরের কৃষক বক্ত সরকার বলেন, ‘আমরা অনেক কষ্ট করে এই জমিতে ধান ফলিয়েছি। মাসের পর মাস বাড়িঘর ছেড়ে এখানে থাকছি। এখন সব পানির নিচে- আমরা একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেলাম।’ আরেক কৃষক নিকেশ সরকার বলেন, ‘ধারদেনা করে জমি চাষ করেছি। ধান পাকাই ছিল, কিন্তু আবহাওয়া খারাপ থাকায় কাটতে পারিনি। বাঁধ ভেঙে আমার ২০ কাঠা জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব বুঝতে পারছি না।’ উপজেলা কৃষি উপ-সহকারী কর্মকর্তা কবির হোসেন জানান, জিনারিয়া হাওরের ২৬ হেক্টর জমির মধ্যে বাঁধ ভাঙার আগেই জলাবদ্ধতায় ৮ হেক্টর তলিয়ে ছিল। বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর আরও প্রায় ৩ হেক্টর জমি পানির নিচে চলে গেছে।
দোয়ারাবাজার উপজেলার নাইন্দার হাওর, কাংলার হাওর, দেখার হাওর, কনস্কাই বিলসহ ছোট-বড় অধিকাংশ হাওর টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে। আকস্মিক পানি বৃদ্ধিতে পাকা বোরো ধান ডুবে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। সরেজমিনে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ হাওরজুড়ে শুধু পানি আর পানি। কোথাও কোথাও ধানের শীষ পানির নিচে ডুবে আছে, আবার কোথাও আংশিক ভেসে আছে। কৃষকরা কোমরসমান পানিতে নেমে শেষ চেষ্টা হিসেবে ধান কাটছেন, তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সামান্য। কৃষক আব্দুল করিম বলেন, ‘এই ধানই ছিল আমাদের সারা বছরের ভরসা। ঋণ করে চাষ করেছি। এখন যা কেটেছি, সেটাও শুকাতে পারছি না। সব দিক থেকেই ক্ষতির মুখে পড়েছি।’