বিজ্ঞপ্তি
নভেম্বর / ০৯ / ২০২২
সিলেট জেলা যুব মহিলা লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি বলেছেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিল নারী-পুরুষ সমানাধিকার হয়ে শিক্ষা দিক্ষায় অগ্রসর হয়ে জাতির স্ব স্ব ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা অর্জন করবে। আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে গর্বিত জাতি হিসেবে বিশ্বে মাথা উচু করে দাঁড়াবে।
৮ নভেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে সিলেট নগরীর জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে আয়োজিত জেলা যুব মহিলা লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের সহ-সভাপতি ডেইজি সারোয়ার-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে নাহিদ প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন।
নাহিদ এমপি বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ৭১ সালে আমাদের যে স্বাধীনতার সংগ্রামে ৩০ লাখ মা-বোন শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা দেখে ঘাতকরা ৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু সপরিবারকে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে হত্যা করে। এরপর থেকে জাতি উন্নয়ন অগ্রগতি থেকে বঞ্চিত হয়। নাহিদ বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এখন উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষা ও উন্নয়ন ক্ষেত্রে সকল দিক দিয়ে দেশের মানুষ অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হয়েছে। আগামী দ্বাদশতম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র এক বছর বাকি আছে। সামনের নির্বাচনে যদি আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় যেতে না পারে, তাহলে বিএনপি-জামাত চক্র দেশের সবকিছু ধ্বংশ করে দেবে। তিনি যুব মহিলা লীগকে অতীতের ন্যায় সুসংগঠিত হয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার হাতকে আরও শক্তিশালী করতে রাজপথের আন্দোলন সংগ্রামে বলিষ্ঠ ভ‚ুমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সম্মেলনের উদ্বোধক বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপিকা অপু উকিল বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় থাকতে সিলেট সহ সারা দেশে যুব মহিলা লীগ গণতান্ত্রিক আন্দোলন করতে গিয়ে জেল জুলুম নির্যাতনের স্বীকার হয়েছে। ২০০২ সালে আওয়াম লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা সিলেট সফরে এলে সে সময়ে সিলেট জেলা যুব মহিলালীগের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। তখন থেকে সিলেট যুব মহিলালীগ সুসংগঠিত হতে থাকে। এ সংগঠন আওয়ামীলীগের সহযোগী সংগঠন হিসেবে সকল দুর্যোগে মাঠে-ঘাটে কাজ করে যাচ্ছে। এখনো যুব মহিলা লীগের নেতাকর্মীর শরীরে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের নির্যাতনের চিহ্ন এখনো বয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ঘাতকরা ৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধুর সপরিবারকে হত্যা করলেও তাঁর মহান আদর্শ থেকে বঙ্গবন্ধুর সৈনিকদের হত্যা করতে পারে নাই। ১৫ই আগস্ট হত্যাকান্ডের পর বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা এতিম হলেও তাদের পাশে বাংলার জনগণ দাঁড়িয়ে আছে এবং থাকবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আধুনিক উন্নত রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্যে যুব মহিলালীগ এক প্রাণশক্তি হিসেবে আবিভর্‚ত হয়ে দেশবাসীর সেবায় নিয়োজিত রয়েছে।
অপু উকিল বলেন, সিলেট যুব মহিলালীগ ৮১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি হবে। এতে সকল উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটির পরিধি বৃদ্ধি পাবে। যুব মহিলা লীগ চায়, অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের ৩৩% নারী কৌঠা বৃদ্ধি পাক। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জিবিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আবারও ক্ষমতায় যেতে যুব মহিলা লীগের নেতাকর্মী প্রস্তুত রয়েছে।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন, সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, সাবেক এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এডভোকেট নাসির উদ্দিন খান, যুব মহিলা লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি আদিবা আঞ্জুম মিতা এমপি, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জমান চৌধুরী, কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের সহ-সভাপতি কোহেলী কুদ্দুছ মুক্তি, কেন্দ্রীয় সহসভাপতি পারভীন খায়ের প্রমুখ।
সম্মেলনে ৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধুর সপরিবারে হত্যাকান্ডের জন্য এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে সিলেটের ৬জন কৃতি জাতীয় রাজনীতিবিদগণের স্মরণে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। সম্মেলনের পূর্বে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি সহ যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপিকা অপু উকিল এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ সম্মেলন স্থলের বাহিরে এক ঝাক কবুতর ও বেলুন উড়িয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। এ সময় জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।
দুপুর ১২টায় মঞ্চে আরোহন করেন সকল অতিথিবৃন্দ। এ সময় অতিথিবৃন্দকে সিলেট যুব মহিলা লীগ নেতৃবৃন্দ ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। অনুষ্ঠানের মধ্যভাগে দলীয় এক ঝাক তরুনী নৃত্য সঙ্গীত পরিবেশন করে। প্রথম অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে দ্বিতীয় অধিবেশন বসে। এ অধিবেশনে সিলেট জেলা কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি গঠনের জন্য নিজ নিজ প্রার্থীতা ঘোষণা করা হয়।
সভাপতি পদে নাজনীন আক্তার কণা, তাসমীহ বিনতে স্বর্ণা ও নাজিরা বেগম শীলা প্রার্থী হন। সাধারণ সম্পাদক পদে একজন প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। তখন মঞ্চে সিলেট জেলা যুব মহিলালীগের সাবেক সভাপতি ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মহিলা কাউন্সিলর নাজনীন আক্তার কণা ও সাধারণ সম্পাদক তাসমীহ বিনতে স্বর্ণা উপস্থিত ছিলেন। ঘোষণাকালে প্রার্থীদের পক্ষে সমর্থন ও প্রস্তাবক নিয়ে হট্টগোল হওয়ায় প্রধান অতিথি সহ বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক মঞ্চ ত্যাগ করে চলে যান।