এপারে(পশ্চিম) বোত্তাশাহ মাজার,ইসকন মন্দিরসহ বিভিন্ন
পর্যটন স্পষ্ট ওপারে(পূর্ব) শাহ আরেফিন(রঃ) আস্তানা ও পনতীর্থ উৎসব কেন্দ্র
ও অদৈত্ব মহাপ্রভুর মন্দির। মাঝে যাদুকাটা নদী। এই নদীকে ঘিরে হাজার হাজার
মানুষের জীবন জীবিকার অবলম্বন খোঁজে। কিন্তু নদীতে সেতু না থাকায় নদী পারা
পারে দূর্ভোগের শেষ নেই
সুনামগঞ্জের তিনটি উপজেলার বাসিন্দাদের।
বহু
প্রতিক্ষিত তাহিরপুর,মধ্যনগর ও র্ধমপাশা তিনটি উপজেলার কাংঙ্খিত স্বপ্ন
পুরণের ধার প্রান্তে সীমান্ত এলাকায় যাদুকাটা নদীতে নির্মিত সেতুটির
নির্মাণ সরকার কাজ শেষ হলে যাদুর ছোঁয়া লাগবে,খোলবে অপার সম্ভাবনার নতুন
দুয়ার এমনটাই মনে করছেন সচেতন মহল।
উপজেলার
বাদাঘাট ইউনিয়নের স্থানীয় এলাকাবাসী ও সর্ব মহলে দাবীর প্রেক্ষিতে নির্মিত
সেতুটির নামকরণ করা হয়েছে শাহ আরেফিন সেতু অদ্বৈত মৈত্রী সেতু।
শামিম
আহমেদসহ স্থানীয় এলাকাবাসীর সাথে কথা বললে তারা জানান,উপজেলার যাদুকাটা
নদীর উপর নির্মাণাধীন সেতু চালু হলে তিনটি শুল্ক বন্দর (বড়ছড়া, চারাগাঁও,
বাগলী) স্থলবন্দর থেকে কয়লা, চুনাপাথর পরিবহন, পর্যটন স্পট শিমুল বাগান,
শহীদ সিরাজ লেক, বারেকটিলা, টাঙ্গুয়ার হাওরে প্রতিদিনই হাজার হাজার পর্যটক ও
ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন যানবাহনে করে সহজে আসতে পারবেন। জেলার তাহিরপুর,
ধর্মপাশা, মধ্যনগর উপজেলার সীমান্ত সড়ক দিয়ে জেলা সদরের সাথে ধর্মপাশা,
নেত্রকোণা, ময়মনসিংহ হয়ে ঢাকার সাথে যোগাযোগ সহজ হবে। এলাকাবাসী দীর্ঘ সময়
ধরে যাদুকাটা নদীর উপর সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। জনগনের দাবির
প্রেক্ষিতে সরকার যাদুকাটা নদীর উপর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। আনুষ্ঠানিক
ভাবে যাদুকাটা নদীর উপর ‘শাহ আরেফিন ও অদ্বৈত মহাপ্রভু’ নামে সেতু নির্মাণ
করছে সরকার।সেতুটি চালুর পর এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন হবে বলে আশা সর্বমহলের।
তাহিরপুর
উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্রে জানাযায়, ৭৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটি
নির্মাণে ব্যয় হবে ৮৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। নির্মাণকাজ পেয়েছে ঠিকাদারি
প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশন। ২০১৮ সালের মার্চ মাসে সেতুর নির্মাণকাজ শুরু
করে ৩০ মাসের মধ্যেই এই সেতুটির কাজ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু নির্মাণকাজের
মেয়াদ শেষ হলেও সেতুটির ৭০শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। সেতুর ১৪টি পিলার ও
৭৫টি গার্ডার নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়াও ব্রিজের অন্যান্য কাজ চলমান
রয়েছে।
যাদুকাটা নদীর উপর
কোনো সেতু না থাকায় নদী পার হতে গিয়ে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয় হাজার
হাজার মানুষকে। তবে যাদুকাটা নদীতে শাহ আরেফিন (র.)অদ্বৈত মৈত্রী সেতু
নির্মাণকাজ শেষ হলে দূর্ভোগ কাটিয়ে জীবন জীবিকার অবলম্বনে বেকার যুবকদের
কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে জানান উপজেলা প্রেসক্লাবে সাধারণ
সম্পাদক ও স্থানীয় বাসিন্দা আলম সাব্বির।
উত্তর বড়দল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও
বাদাঘাট বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাসুক মিয়া জানান,একটি দেশ এলাকার উন্নয়ন মূল চাবী যোগাযোগ ব্যবস্থা।
যাদুকাটা
নদীর উপর সেতু নির্মাণকাজ শেষ হলে যাদুর ছোঁয়া লাগবে। বর্তমান সরকারের
উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় জনদুর্ভোগ লাঘবে যাদুকাটা নদীতে নির্মাণাধীন এই
সেতুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এলাকার ব্যাপক পরিবর্তন হবে।
বাদাঘাট
ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন বলেন, যাদুকাটা নদীর উপর সেতু নির্মাণ
শেষ হলে তিনটি স্থলবন্দর ও পযর্টন স্পটগুলোর জন্য উপজেলা অধিক গুরুত্বপূর্ণ
হয়ে উঠবে। এলাকার যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তনের
পাশাপাশি পর্যটনসমৃদ্ধ উপজেলা হিসেবে আরও ব্যাপকভাবে পরিচিতি পাবে
তাহিরপুর।
তাহিরপুর উপজেলা
প্রকৌশলী মোঃ আরিফ উল্লাহ খান বলেন,আশা করি খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই সেতুর
কাজ শেষ হবে। আর কাজ শেষ হলেই জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
স্থানীয়
সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মাহবুব আলম জানান,করোনা
সহ বিভিন্ন কারনে সেতুটির কাজ সময় মত শেষ করা সম্ভব হয় নি। তবে ৭০ ভাগ কাজ
শেষ হয়েছে আশা করছি আগামী বছরের জুন মাসে এর উদ্বোধন করা সম্ভব হবে।
তাহিরপুর
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বলেন,দীর্ঘদিনের লালিত
স্বপ্নের প্রতিফলন যাদুকাটা নদীর উপর সেতু নির্মাণ সম্পন্ন হলে এই এলাকায়
এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন হবে। পর্যটকদের আগমন ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাবে।
পাশাপাশি এলাকার বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানসহ এলাকায় উৎপাদিত কৃষি পন্যসহ
সার্ভিক পরিস্থিতি যুগান্তকারী পরিবর্তন সাধিত হবে।