বিজ্ঞপ্তি
ডিসেম্বর / ১৩ / ২০২২
বিয়ানীবাজার উপজেলার লাউতা গ্রামের বাসিন্দা মো. ছমিক উদ্দিন অভিযোগ করেছেন শহীদ বুদ্দিজীবী ড. জিসি দেবের ২.৪৭ শতক ভূমিতে হিন্দু মুসলিম মিলে ২৩টি পরিবার ভূমি অধিগ্রহণ করে দীর্ঘদিন থেকে বসবাস করলেও শুধু তার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে। মঙ্গলবার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, এই মহান ব্যক্তির ভূমির কোন অংশ দখলে থাকলে সেটি স্বেচ্ছায় ছেড়ে দেয়া হবে। ড. জিসি দেবের ভূমির অংশ কে বা কারা দখল করেছে সেটি সরেজমিন তদন্ত করে বের করারও দাবি জানান ছমিক উদ্দিন।
লিখিত বক্তব্যে ছমিক উদ্দিন বলেন, ১৯৬৫ সালের ৩ ডিসেম্বর ১১৯৯ নং গেজেটে ১/১৯৬৯ নং অর্ডিন্যান্স মতে নন্দিরফল মৌজার বিভিন্ন দাগে ২৪৭ শতক ভূমি এনিমি প্রপার্টি হিসেবে তালিকাভূক্ত হয়। পরবর্তীতে ২০১২ সালে বাংলাদেশ সরকার নতুন গেজেটে এস এ মালিকদের নাম তালিকাভুক্ত করে। এতে গেজেটে এস এ মালিকগণ হলেন, পুলিশ চন্দ্র দেব, রাজেন্দ্র ভট্্রাচার্য্য, বিহারী চরণ পাল এবং ঠাকুরধন পাল। পরবর্তীতে ভিপি কেইছ নং ৭/৭১-৭২ এর মাধ্যমে বন্দোবস্ত গ্রহিতা হলেন, কটাই মিয়ার পুত্র জমসেদ আলী। তার নামে এস এ দাগ ৮৮, ৮৯, ৯০ ও ৯১ নং দাগে মোট ২.৪৭ শতক ভূমি বন্দোবস্ত ছিল। জমসেদ আলী লিজ নবায়ণ না করায় পরবর্তীতে এই ভূমি অন্যান্য ব্যাক্তিদের নামে বন্দোবস্ত দেয়া হয়। যারা ১৯৬৬ সাল থেকে এই ভূমি ভোগদখল করে আসছেন। বন্দোবস্ত পাওয়া ব্যাক্তিদের মধ্যে শুধাংশ চন্দ্র চন্দের নামে ৯১ নং দাগে লিজ ছিল ৭৪ শতক ভূমি। পরবর্তীতে কর্তন করে এটি করা হয় ৫৭ শতক এবং বর্তমানে সরেজমিন রয়েছে ৪৪ শতক। তার মৃত্যুর পর এই ভূমিতে বর্তমানে বসবাস করছেন তার ভাই গৌরাঙ্গ চন্দ্র চন্দ গং। অনুরুপভাবে এই দাগে আরেক গ্রহিতা আতাই মিয়ার নামে ৩০ শতক ভূমি বন্দোবস্ত দেয়া হয়। ৯০ নং দাগে সদয় চন্দ্র দেবের নামে ৩০ শতক ভূমি বন্দোবস্ত দেয়া হয়। সদয় দেবের মৃত্যুর পর এই ভূমির লীজ গ্রহণ করেন মকুল লাল দেব। বর্তমানে মকুল দেবের ছেলে মহিত লাল ও বলাই লাল এ ভূমিতে বসবাস করছেন। ৯০ নং দাগে আরো তিন লীজ গ্রহিতা হলেন, পরেশ মালাকার ৪২ শতক, নরেশ মালাকার ৪২ শতক এবং হরিপদ মালাকার ৪৩ শতক। পরেশ মালাকারের ভুমিতে বর্তমানে তার ছেলে প্রনয় মালাকার ও পরিমল মালাকার বসবাস করছেন। আর নরেশ মালাকারের মৃত্যুর পর তার ছেলে অপন মালাকার ও অপু মালাকার ৩৮ শতক ভূমি বন্দোবস্ত নেন। এছাড়া হরিপদ মালাকারের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী কৃষ্ঞা মালাকার ৮ শতক ভূমির লীজ গ্রহণ করেন। বর্তমানে উনার ছেলে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক রিপন মালাকার বসবাস করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ছমিক উদ্দিন বলেন, ১৯৯৭ সালে তিনি ৮৮ নং দাগে ১৩ শতক, ৮৯ নং দাগে ৩৩ শতক এবং ৯০ নং দাগে ৩৫ শতক ভূমি তিনি সরকারের নিকট থেকে বন্দোবস্ত আনেন। এই তিন দাগে মোট ৮১ শতক ভূমিতে তিনি পুকুর ও বসতভিটা নির্মাণ করে বসবাস করে আসছেন। ২০০৪ সালে তিনি সর্বশেষ এই ভূমি নবায়ন করেছেন এবং গত ২৪ অক্টোবর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে পুনরায় নবায়নের জন্য আবেদন করেছেন। এটি এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে আরো উল্লেখ করা হয়, আতাই মিয়ার লিজকৃত ভূমিতে তিনিসহ তার ভাই আজন মিয়া ও ভাগ্না মোস্তফা উদ্দিন বসবাস করছেন। অন্যদিকে পরেশ মালাকারের ভূমিতে তিনিসহ আলতাফ হোসেন ও জনি আহমদ নামে আরো দুজন বসবাস করছেন। এছাড়া অপন ও অপু মালাকারের লিজকৃত ভ’মিতে তারাসহ বিকাশ চন্দ্র দেব ও বিপ্লব দেব বর্তমানে বসবাস করছেন। ছমিক উদ্দিন বলেন ৮৮ নং দাগে তার ১৩ শতক ভূমির মধ্যে ৫ শতক ভূমি তার অগোচরে মখদ্দছ আলীর নামে বিএস ৯৪ নং খতিয়ানে রেকর্ড হয়। মখদ্দছ কিভাবে রেকর্ডপ্রাপ্ত হলেন এটি তার বোধগম্য নয় বলে দাবি করেন ছমিক উদ্দিন। উক্ত ৫ শতক ভূমিতে আলা উদ্দিন গং তিন ভাই বর্তমানে বসবাস করছেন। সংবাদ সম্মেলনে ছমিক উদ্দিন দাবী করেন প্রতি বছর শহীদ বুদ্দিজীবি দিবসে একটি চক্র তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে বিভ্রান্তির সংবাদ প্রচার করায়। এতে তিনি এবং তার পরিবার মারাত্বকভাবে সম্মানহানির শিকার হন। এই চক্র অসৎ উদ্দেশ্যে অপপ্রচার চালায় বলেও দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, দেশের গুণীজন শহীদ বুদ্দিজীবী ড. জিসি দেব ও তাঁর ৬ ভাই এবং রাজকুমার ভট্্রাচার্য্য ও রাজ চন্দ্র ভট্্রাচার্য্য নামে দুই ব্যাক্তি এই ভূমির এস এ মালিক। কিন্তু ১৯৬৫ সালে সরকার এটি বন্দোবস্ত দিয়ে দেয়। এই ২.৪৭ শতক ভূমিতে হিন্দু মুসলিম ২৩টি পরিবার বসবাস করে আসলেও বারবার তাকেই অভিযুক্ত করা হয় বলে জানান ছমিক উদ্দিন। তার বন্দোবস্ত ভূমিতে ড. জিসি দেবের মালিকানা থাকলে তিনি স্ব ইচ্চায় এই ভূমি ছেড়ে দেবেন বলে জানান। সেই সাথে সরেজমিন তদন্ত সাপেক্ষে ড. জিসি দেবের ভূমি কারা দখল করেছে সেটি বের করার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান।