পুণ্যভুমি ডেস্ক
নভেম্বর / ০৪ / ২০২২
ভারতের বিপক্ষে ঘটনাবহুল ম্যাচে শেষ ওভারের নাটকীয়তায় মাত্র ৫ রানে হেরেছে বাংলাদেশ দল। আর সেই হারে অষ্টম টি২০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা একেবারেই ম্লান হয়ে গেছে। এখনো একটি ম্যাচ বাকি আছে সাকিব আল হাসানদের। সেমির কঠিন সমীকরণের মারপ্যাঁচ নিয়ে ভাবনা নেই তাদের। বরং শেষ ম্যাচ জিতে ভালোভাবেই বিশ্বকাপ মিশনে সমাপ্তি টানতে চাইছে বাংলাদেশ দল। ভারতের বিপক্ষে হৃদয়ভাঙা হারের ক্ষতচিহ্ন হয়তো শুকাবে না, কিন্তু নিজেদের ধাতস্ত করার জন্য যথেষ্ট সময় পাবেন সাকিবরা। আগের ম্যাচগুলো এক ভেন্যু থেকে আরেক ভেন্যুতে গিয়ে খেলতে হয়েছে মাঝে ২ দিন করে বিরতির পর। কিন্তু এবার কোথাও যেতে হচ্ছে না। ভারতের কাছে অ্যাডিলেড ওভালে হেরে যাওয়া মঞ্চেই আগামী রবিবার পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ ম্যাচ। এর আগে মানসিক কষ্ট ভুলে আবার মাঠের খেলায় মনোনিবেশ করার জন্য ৩ দিন বিরতি পাচ্ছে টাইগাররা। ইতোমধ্যে নিজেদের সেরা টি২০ বিশ্বকাপ কাটাচ্ছে দল। পাকিদের হারাতে পারলে সাকিবরা দুর্দান্ত এক বিশ্বকাপ সমাপ্ত করবেন।
এবারই প্রথম টি২০ বিশ্বকাপে সরাসরি সুপার টুয়েলভ পর্বে খেলছে বাংলাদেশ। ২০০৭, ২০০৯, ২০১০ ও ২০১২ সালে গ্রুপ পর্ব খেলে শুধু প্রথম আসরেই দ্বিতীয় পর্বে উঠতে পারে টাইগাররা। এরপর ২০১৪, ২০১৬ ও ২০২১ সালে হওয়া তিন বিশ্বকাপে প্রাথমিক রাউন্ড খেলতে হয়েছে এবং প্রতিবার প্রাথমিক রাউন্ড পেরিয়েছে বাংলাদেশ দল। এর মধ্যে ২০১৪ সালে হংকং এবং ২০২১ সালে স্কটল্যান্ডের কাছে হেরে যাওয়ার লজ্জাও আছে। কোন টি২০ বিশ্বকাপেই ৩ ম্যাচ জিততে পারেনি বাংলাদেশ দল। উল্টো ২০০৯, ২০১০ ও ২০১২ সালে গ্রপ পর্বের সব ম্যাচ হেরে বিদায় এবং ২০০৭, ২০১৪, ২০১৬ ও ২০২১ সালে দ্বিতীয় পর্বে উঠে সব ম্যাচ হেরেছে বাংলাদেশ। কিন্তু এবার ব্যতিক্রম হয়েছে। প্রথমবার সরাসরি সুপার টুয়েলভ পর্বে এবার খেলার সুযোগ এসেছে মূলত আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শীর্ষ আটে থাকার কারণে। সেই সুযোগটা বেশ ভালোভাবেই কাজে লাগিয়েছে বাংলাদেশ। হল্যান্ডকে হারিয়ে সুপার টুয়েলভ পর্বে জয় দিয়েই বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেন সাকিবরা। এই প্রথম বিশ্বকাপের দ্বিতীয় পর্বে জয়ের দেখা পেয়েছে টাইগাররা। সেখানেই থামেনি দল, দুর্বার হয়ে ওঠা জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও জিতেছে। দুই ম্যাচেই নিজেদের চেয়ে কম শক্তির দলের বিপক্ষে জিততে ঘাম ঝরেছে বাংলাদেশ দলের। কিন্তু এ দুটি জয় ছিল মহা গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপে আগের ৭ আসরের ব্যর্থতা এবার ঘুচে গেছে এবং গত ১ বছর ধরে হারের বৃত্তে ঘুরপাক খেতে থাকা দল আবার নিজেদের হারানো আত্মবিশ্বাস খুঁজে পেয়েছে।
একেকটি জয় যে কোনো দলের চেহারা পাল্টে দেয়। ডাচ ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পাওয়া জয় যেখাবেই আসুক এতে করে পাল্টে গেছে বাংলাদেশ দলের চিত্র। ক্রিকেটাররা আবার নিজেদের মানসিক শক্তি ফিরে পেয়েছেন। সেই সঙ্গে নতুন সম্ভাবনাও উঁকি দিয়েছে। ভারতের বিপক্ষে সে কারণেই সেয়ানে-সেয়ানে লড়াই হয়েছে। ভারতের বিপক্ষে সাম্প্রতিক সময়ে ক্রিকেটীয় লড়াইয়ে সবসময়ই দারুণ উত্তেজনা আর বিতর্ক ছড়িয়ে পরে। ম্যাচের আগে-পরে চলতে থাকে কথার লড়াই। যদিও প্রতিবার ভারতই জিতে যায় বড় মঞ্চে।
এবারও নানা ঘটনায় রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের পর ভারতই জিতেছে। এই ম্যাচকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নানাবিধ বিতর্ক। বৃষ্টিতে ভেজা মাঠ পুরোপুরি প্রস্তুত হওয়ার আগেই আম্পায়াররা খেলা শুরু করেছেন এমন অভিযোগ উঠেছে। সাকিব দুই আম্পায়ারের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলেও কোন লাভ হয়নি। বল হাতে না পেয়েও বিরাট কোহলি ‘শ্যাডো থ্রো’ অর্থাৎ বল ছোঁড়ার ভঙ্গি করেছেন যা নিয়ে নাজমুল হোসেন শান্ত আম্পায়ারের কাছে অভিযোগ করেও সুরাহা পাননি।
এরকম ক্ষেত্রে আইসিসির নিয়ম অনুসারে ‘ফেক ফিল্ডিং’ হিসেবে গণ্য হয় এবং বলটি ডেড ঘোষণার পাশপাশি ব্যাটিং দল ৫ রান পেনাল্টি লাভ করে। এর বাইরেও আম্পায়ারের কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে আছে ছোটখাটো অভিযোগ। তবু শেষ বলে ছক্কা হাঁকাতে পারলে এই ম্যাচে বাংলাদেশ দল অন্তত টাই করে সুপার ওভার খেলতে পারত। সেটি হয়নি। ১০ উইকেট হাতে নিয়েও ৯ ওভারে বাকি ৮৫ রান করতে না পারার অক্ষমতায় হেরেছে বাংলাদেশ দল।
কিন্তু চলতি আসরের অন্যতম হট ফেভারিট ভারতের বিপক্ষে এমন লড়াইয়ের পর সেই দলটি যে আবার নিজেদের ফিরে পেয়েছে তা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। তবে জয়ের কাছাকাছি গিয়ে এমন বেদনার হারে মুষড়ে পড়েন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। সেই হতাশা কাটিয়ে এখন মাঝে ৩ দিন নিজেদের মানসিকভাবে ফিরে পাওয়ার চ্যালেঞ্জ সাকিবদের। পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ ম্যাচটি অ্যাডিলেডেই।
ভারতের বিপক্ষে সেয়ানে-সেয়ানে লড়াইয়ের পর সেই ম্যাচে জয়ের স্বপ্ন দেখছেন বাংলাদেশের ক্রিকেট ভক্ত-সমর্থকরা। জেতার পর সেমিফাইনালের সমীকরণ কি ঘটবে সেই চিন্তার চেয়ে বরং এখন জয় দিয়ে শেষ করার আশা পূরণ হওয়াটাই মূল লক্ষ্য। সেক্ষেত্রে ৩ জয়ে বিশ্বকাপ শেষ করে নিজেদের ইতিহাসের সেরা বিশ্বকাপ মিশন সমাপ্ত করবেন সাকিবরা।