বিজ্ঞপ্তি
অক্টোবর / ১৮ / ২০২২
বিভিন্ন কারণে বন্ধ থাকা সিলেটের পাথর কোয়ারীগুলো খুলে দেওয়ার দাবি জানয়েছেন সিলেট বিভাগীয় ট্রাক পিকআপ ও কার্ভাডভ্যান মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ। আগামী ৩০ অক্টেবরের মধ্যে পাথর কোয়ারী খুলে না দিলে ৩১ অক্টেবর থেকে সিলেট জেলায় ৪৮ ঘন্টার লাগাতার পণ্য পরিবহণ বন্ধ করে ধর্মঘট পালন করা হবে বলে জানানো হয় ওই সংবাদ সম্মেলনে। এছাড়া পরবর্তীতে বৃহত্তর সিলেটের ৪ জেলায় অনির্দিষ্ট কালের জন্য এ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হবে। গতকাল রবিবার সিলেটে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানান সিলেট বিভাগীয় ট্রাক পিকআপ ও কার্ভাডভ্যান মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের আহবায়ক গোলাম হাদী ছয়ফুল
তিনি বলেন, সিলেট জেলার ভোলাগঞ্জ, বিছনাকান্দি, জাফলং এবং লোভাছড়া পাথর কোয়ারীগুলো থেকে স্বাধীনতা উত্তর কাল থেকে সারা দেশের পাথর সরবরাহ করা হয়ে আসছিল। সিলেটের এই কোয়ারীগুলো থেকেই সারা দেশের সিংহভাগ পাথরের চাহিদার যোগান দেয়া হচ্ছিল। ফলে, দিনে দিনে পাথর আহরণ, পাথর ভাঙা, বিক্রয় ও বিপণনের সাথে বৃহত্তর সিলেটের প্রায় ১৫ লাখ মানুষ জড়িত হয়ে পড়েন। শুধুমাত্র কোয়ারীগুলোতেই সরাসরি পাথর আহরণের সাথে সম্পৃক্ত হন প্রায় ৬ লাখ মানুষ। পাথর ব্যবসায় সংশ্লিষ্ট সিলেট বিভাগের ১৫ লাখ মানুষের বড় একটি অংশ পরিবহণ মালিক ও শ্রমিক। সিলেট থেকে পরিবহণযোগ্য পণ্যের মূল পণ্য হচ্ছে আমাদের কোয়ারীগুলো থেকে আহরণ করা পাথর। কিন্তু, দীর্ঘ প্রায় ৫ বছর ধরে কোয়ারী বন্ধ থাকার কারণে সিলেটের পরিবহণ খাত বিশেষ করে ট্রাক মালিক ও শ্রমিকদের ব্যবসায় মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। অধিকাংশ ট্রাক মালিক ব্যাংক ঋণ নিয়ে অথবা কোম্পানীগুলোর কাছ থেকে কিস্তিতে মূল্য পরিশোধের শর্তে তাদের গাড়ী কিনেছেন। গত ৫ বছর ধরে কোয়ারী বন্ধ থাকার কারণে অনেক মালিক ঋণের কিস্তি দিতে না পেরে ইতোমধ্যে ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন। অনেকেই ব্যাংক ঋণে জর্জরিত হয়ে চরম আর্থিক সংকটে পতিত হয়েছেন। শুধু তাই নয়, সিলেট জেলায় প্রায় ১৪ হাজার ট্রাক শ্রমিক রয়েছেন কোয়ারীগুলো বন্ধ থাকায় তাদের নিয়মিত আয় বন্ধ রয়েছে। ফলে, পরিবার পরিজন নিয়ে ট্রাক শ্রমিকরাও দুঃসহ জীবন যাপন করছেন।
তিনি বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারসাজিতে প্রায় ৮ বছর আগে সিলেটের পাথর কোয়ারীগুলো থেকে পাথর আহরণ বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু হয়। অসাধু এই ব্যবসায়ীরা এলসির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ থেকে নি¤œ মানের পাথর আমদানীর মাধ্যমে অবৈধ মুনাফা হাসিলের লক্ষ্যে সিলেটের কোয়ারীগুলো বন্ধের ষড়যন্ত্র শুরু করে। ফলে, কিছু প্রভাবশালী দুর্বৃত্তের ছত্রছায়ায় বোমা মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলনের অজুহাতে ওই দুর্বৃত্ত চক্র সিলেটের সকল কোয়ারী বন্ধের চেষ্টা চালায়। প্রশাসনের কার্যকর ভুমিকার কারণে পাথর কোয়ারিগুলো বোমা মেশিন মুক্ত হওয়ার পরও সিলেটের পাথর কোয়ারিগুলো বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। সরকারকে ভুল ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে ঐ দুর্বৃত্ত চক্র জ¦ালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করিয়ে সিলেটের পাথর কোয়ারী থেকে যান্ত্রিক বা সনাতন উভয় পদ্ধতিতেই পাথর উত্তোলন বন্ধ করে দেয়।
‘পরিবেশ রক্ষার অজুহাতে একটি অসাধু ব্যবসায়ী চক্রের ইন্ধনেই দেশীয় এ সম্পদ আহরণ বন্ধ রেখে নি¤œমানের বিদেশী পাথর আমদানি করে মধ্যস্বত্ব ভোগ করছে। অথচ সিলেটের পাথর কোয়ারীগুলোর পাথরই দেশের নির্মাণ শিল্পের অন্যতম প্রাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় সরকার বিপুল অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে।’- যোগ করেন তিনি।
এল.সি’র মাধ্যমে পাথর আমদানীর ফলে দেশের অর্থ বিদেশে পাচার হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, পাথর কোয়ারীগুলো থেকে সনাতন পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলন অব্যাহত রেখে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার বন্ধ রাখা যেত।
পাথর আহরণ ও পাথর ব্যবসার সাথে সংশ্লিষ্ট সবাই সনাতন পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলনে সম্মত জানিয়ে তিনি বলেন, এ পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলন অব্যাহত রাখার ব্যপারে হাইকোর্টের একটি নির্দেশনাও রয়েছে। একাধিক বার মাননীয় হাইকোর্ট সিলেটের পাথর কোয়ারীগুলো থেকে সনাতন পদ্ধতিতে পাথর আহরণের সুযোগ করে দেয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসনকে। কিন্তু, সিলেটের জেলা প্রশাসন বা বিভাগীয় প্রশাসন এবং খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় বিজ্ঞ উচ্চ আদালতের ঐ নির্দেশনার প্রতি কোনরূপ শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেননি।
এ সময় তিনি ২০১৯ সাল থেকে চলমান নানা আন্দোলন-সংগ্রামের তথ্য জানিয়ে বলেন, সা¤প্রতিক প্রলয়ঙ্কারী বন্যায় বৃহত্তর সিলেটের মানুষের জীবন ও জীবিকা মারাত্মক সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে। আয় রোজগার না থাকায় প্রান্তিক এ শ্রমজীবী মানুষগুলো দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। সিলেটের পাথর কোয়ারী সংশ্লিষ্ট এলাকা সমূহে বর্তমানে দুর্ভিক্ষাবস্থা বিরাজ করছে। পাথর পরিবহণে সংশ্লিষ্ট হাজার হাজার ট্রাক শ্রমিক বেকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। শত শত ট্রাক মালিক, স্টোন ক্রাশার মালিক ও ব্যবসায়ী ব্যাংক ঋণে জর্জরিত হয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে সংকটাপন্ন অবস্থায় দিন যাপন করছেন। অথচ, পাথর কোয়ারী বন্ধ রেখে বিদেশ থেকে রিজার্ভের ডলার খরচ করে পাথর আমদানী করে উন্নয়ন কাজ চালানো হচ্ছে। ফলে রাষ্ট্রীয় রিজার্ভ সংকটে পতিত হয়েছে। লাখো মানুষের জীবন রক্ষা এবং রাষ্ট্রীয় রিজার্ভের ডলার সাশ্রয়ের জন্য সিলেটের পাথর কোয়ারী জরুরী ভিত্তিতে খুলে দেয়া আবশ্যক।
তিনি বলেন, আগামী ৩০ অক্টোবরের মধ্যে সিলেটের সকল পাথর কোয়ারী পাথর আহরণের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে হবে। অন্যথায় আগামী ৩১ অক্টোবর থেকে সিলেট জেলায় ৪৮ ঘন্টার লাগাতার পণ্য পরিবহণ বন্ধ করে ধর্মঘট পালন করা হবে এবং এরপর বৃহত্তর সিলেটের ৪ জেলায় অনির্দিষ্ট কালের জন্য এই কর্মসূচির ডাক দেয়া হবে।