সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার ১নং লামাকাজী ইউনিয়নের অন্তর্গত
লামাকাজী সেতুটি নির্মাণ হয় ১৯৯০ সালে। এরশাদ সরকারের আমলে সেতুটির ব্যয়
হয়েছে সাড়ে সাত কোটি টাকা। সিলেট সাথে সুনামগঞ্জের যোগাযোগ বাড়াতে এই
সেতুটি নির্মাণ হয়। পরে সেতুটি ব্যক্তির নামে নামকরণ করা হয়েছে এম.এ খান
সেতু। স্হানীয়দের কাছে লামাকাজী সেতু নামে পরিচিত। সেতু চালুর পর থেকে ছোট
বড় যানবাহন ৩ থেকে ৫ টাকা করে পর্যায়ক্রমে ১০ টাকা টোল দিয়ে আসছে। বছরে
বছরে সরকার সংশ্লিষ্ট থেকে ইজারা দেওয়ার ও রীতি রয়েছে। এককালীন মোটা অংকের
টাকা জমা দিয়ে ইজারাদার সেতু থেকে বছর ব্যাপি টোল আদায় করে। এতে যানবাহন
মালিক শ্রমিক ও স্হানীয়দের মধ্যে ঘটে আসছে অপ্রীতিকর ঘটনা ও।
সর্বশেষ
২০২২ সালের ১৬ ই অক্টোবর মধ্যরাতে টোল আদায় নিয়ে স্হানীয় পাঁচ গ্রামের
বাসিন্দাদের মধ্যে ঘটে ব্যাপক সংঘর্ষ। ভাংচুর হয় লামাকাজী বাজারের শতাধিক
ব্যবসা প্রতিষ্টান,সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত
কর্মকর্তা গাজী আতাউর রহমান সহ অর্ধ শতাধিক মানুষ আহত হন। এদিকে টোল আদায়কে
কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ এস্যাল্ট মামলা দায়ের করা
হয়েছে। এ পর্যন্ত ২৭ জন আসামী কে অভিযান চালিয়ে আটক করে বিশ্বনাথ থানা
পুলিশ। পরে তাদের জেল হাজতে পাঠানো হয়। টোল আদায় নিয়ে স্হানীয় পাঁচ গ্রামের
বাসিন্দাদের মধ্যে শান্তি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ১৭ ই অক্টোবর রাতে বৈঠক
করেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক সাংসদ আলহাজ্ব শফিকুর রহমান
চৌধুরী ও। এসময় স্হানীয় জনপ্রতিনিধি ও মুরব্বিয়ান,ব্যবসায়ীরা বলেন,যতক্ষণ
পর্যন্ত টোল বন্ধ কিংবা স্হায়ী সমাধান না হবে ততক্ষণে এই পরিস্থিতি থেকে
বের হওয়া সম্ভব নয়। যানবাহন মালিক শ্রমিক ও স্হানীয় ব্যক্তিদের দাবি,এক
ধরনের রমরমা টোল বাণিজ্যে জিম্মি তারা। গলাকাটা টোল বন্ধ করে শান্তি
শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানান।
বিষয়টি
নিয়ে সিলেট সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান গণমাধ্যমে
জানান,টোল বন্ধে কোনো এখতিয়ার নেই তার।বিষয়টি সম্পূর্ণ সেতু মন্তণালয়ের
এখতিয়ার বলে ও জানান তিনি।