সারিজ
খ্যাত রামসার সাইট টাংগুয়ার হাওর। হাওরে হাউজ বোড অনিয়ন্ত্রিত চলাচলসহ
নানান অনিয়মের কারনে দিন দিন হাওরে জীববৈচিত্র্য,মাছ,হিজল-করছ গাছ, পাখি, প্রাকৃতিক
পরিবেশ ও নদী ধংশ হচ্ছে। হুমকিতে পড়েছে হাওরকেন্দ্রীক কৃষি ও মৎস্য সম্পদ।
সরকার হাওর নিয়ে কাজ করার কথা বললেও এর কানাকড়ি উন্নয়নের চিহ্ন দেখা যায়নি
ব্যাপক সম্ভাবনা থাকা টাংগুয়ার হাওর ও হাওর পাড়ের এলাকায়।
ফলে
পরিবেশ অধিদপ্তর ও হাওর নিয়ে কাজ করা লোকজন এবং হাওর পাড়ের বাসিন্দারা
বলেছেন, টাংগুয়ারে বিলাশ বহুল অর্ধশতাধিক হাউজ বোডসহ ইঞ্জিন চালিত নৌকা
নিয়ন্ত্রণহীন ভাবে চলাচলে ধান ও মাছের জন্য মারাত্মক বিরুপ প্রভাব পড়বে।
এদিকে
হাউস বোড তৈরি করে পর্যটকদের আকৃষ্ট করছে পর্যটন ব্যবসায়ীরা পাশাপাশি
পরিবেশ ও হাওর নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংঘটনের নেতাগন। পরিবেশ ও হাওর নিয়ে
কাজ করা লোকজন এই বিষয়ে মুখ বন্ধ রাখা ও প্রশাসন নিরব ভুমিকা পালন করায়
হাওরের জীব বৈচিত্র্য প্রকৃতি পরিবেশ নিয়ে সংকিত হয়ে পড়েছেন হাওর পাড়ের
বাসিন্দারাসহ সুনামগঞ্জ ও তাহিরপুর উপজেলায় সচেতন মহল।
এতসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে আগামী বছর থেকে টাংগুয়ার হাওরে ইঞ্জিন নৌকা বন্ধের চিন্তা করছে স্থানীয় প্রশাসন।
পরিবেশ
অধিদপ্তর ও হাওর নিয়ে কাজ করা লোকজন বলছেন,সিলেটের রাতার গুলের মত নষ্ট
হবে টাংগুয়ার হাওরের জীববৈচিত্রসহ সার্বিক পরিস্থিতি। তাই এখনেই সময়
নিয়মনীতি মেনে হাওরের ধান,মাছ,পরিবেশ,প্রকৃতি ও হাওর পাড়ের সামাজিক অবক্ষয়
রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
খোঁজ
নিয়ে জানাযায়, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নীলাভূমি টাংগুয়ার হাওরসহ বিভিন্ন
পর্যটন স্পষ্ট শুরুতে ছোট নৌকা নিয়ে হাওরে গেলেও গত কয়েক বছর ধরে পর্যটন
ব্যবসায়ীরা পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে সম্প্রতি টাংগুয়ার হাওরে বিলাশ বহুল হাউস
বোড গুলোতে ক্যাবিন,এটেষ্ট টয়লেট ও আলাদা বাতরুম আর চাহিদা মত রান্না করা
খাবার দিচ্ছে প্যাকেজটুরের মাধ্যমে। আগত পর্যটকদের মধ্যে বেশির ভাগ উঠতি
যুবক-যবতী,বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী,বিভিন্ন বেসরকারী
প্রতিষ্ঠানের অবিবাহিত চাকুরীজীবিরাই বেশি। তাদের অসাভাবিক পোশাক
পড়া,চলাফেরা হাওরের বাসিন্দাদের মধ্যে বিরুপ প্রভাব পড়ছে।
এছাড়াও
পর্যটকরা প্লাস্টিকের পানির বোতল,কোমল পানিও,পটেটোসহ নানান জিনিস,বোডে
টয়লেটসহ সকল ময়লা হাওরের পানিতেই ফেলছে। এতে করে হাওরের পানি দূষিত হওয়ায়
এর প্রভাব পরছে হাওর পাড়ের বাসিন্দাদের উপর। এছাড়াও হাওরে পাখি,গাছ ও মাছ
কমে গেছে।
এছাড়াও স্থানীয়
ভ্রাম্যমাণ দোকানী আমিনুল ইসলাম জানায়,আমাদের দোকান ও ছোট নৌকার বেশ কদর
ছিল কিন্তু হাউজ বোডের কারনে এক বছর ধরে বেকার সময় পার করছে তারা। আর যারা
হাওর নিয়ে কথা বলে সুসময়ের কুকিলের মত তারাও হাউজ বোড তৈরী করে ব্যবসা শুরু
করেছে যা দুঃখজনক।
মেহেদি
হাসান রিয়াদসহ ঐ সব হাউজ বোড গুলোর মালিক ও চালকগন বলছেন,তারা প্যাকেজ টুর
দিচ্ছে। পরিবেশ ও টাংগুয়ার হাওরের ক্ষতি হয় এমন কিছু তারা করছেন না আর
পর্যটকগনও বিরত রয়েছে।
জমির
উদ্দিন,মোবারক হোসাইনসহ টাংগুয়ার হাওর পাড়ের বাসিন্দাগন জানান,হাওরে
নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র ভাবে হাউজ বোড চলাচল,উচ্চ শব্দে সাউন্ড
বক্স বাজিয়ে গান বাজানোসহ নৌকার টয়লেটসহ সকল ময়লা ও ডিজেল হাওরের পানিতেই
ফেলায় হাওরের পানি দূষিত হচ্ছে। এর প্রভাব পরেছে হাওর পাড়ের বাসিন্দাদের
উপর হাওর পাড়ের বাসিন্দারা পানি বাহিত নানান রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। আর
পর্যটকদের অসাভাবিক আচার আচরন,চলাফেরার কারনে গ্রাম এবং হাওরাঞ্চলে সামাজিক
মূল্যবোধের অবক্ষয়ের মূল কারন হয়ে দাড়িয়েছে।
নাম
প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা থেকে আগত পর্যটক জানান,আমরা বন্ধু-বান্ধবী মিলে
২০জনের একটি টিম এসেছি টাংগুয়ার হাওরসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পষ্ট গুলোতে হাউস
বোড বুকিং করেছি। টাংগুয়ার হাওর রক্ষাসহ নিরাপত্তার বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ
থেকে পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
এই
বিষয় তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রায়হান কবির জানান,হাওরে ছোট
ও মাঝাড়ি আকারের নৌকা চললেও এখন হাউজ বোড চলছে। হাউজ বোডে কোন অনিয়ম ও
নিয়মনীতির পরিপন্থী কোনো কাজ হচ্ছে কি না তা কঠোর ভাবে তদারকি করা হচ্ছে।
জেলা
প্রশাসক জাহাঙ্গীর হোসেন জানান,টাংগুয়ার হাওর রক্ষা কঠোর নজরদারি রাখা
হচ্ছে। কোন অনিয়ম কারীদের ছাড় দেয়া হবে না। হাওরে হাউজ বোড সহ সকল নৌযানকে
নিয়ন্ত্রণে আনা হবে।