পৃষ্টপোষকতার অভাবে হাওরাঞ্চল থেকে অনেক খেলা বিলুপ্ত হয়ে
গেছে৷ গ্রামের মানুষদের নিজস্ব তত্ত্বাবধানে কিছু কিছু খেলা এখনো টিকে
রয়েছে তার মধ্যে কুস্তি খেলা অন্যতম।
যে কোন গ্রামে খেলাটি হলে হাজার হাজার মানুষ কোন আমন্ত্রণ ছাড়াই দেখতে যান।
সামাজিক
সম্প্রীতি ও ভালোবাসার এই কুস্তি খেলাটি দুটি গ্রামের মধ্য থেকে বের হয়ে
এবার আগামী ২৯-৩০ অক্টোবর সুনামগঞ্জ স্টেডিয়ামে উত্তাপ ছড়াবে।
এতে
ক্রীড়াপ্রেমিদের মধ্যে ও সচেতন মহলে আনন্দের পাশাপাশি অতিথ ঐতিহ্যকে সামনে
নিয়ে আসার জন্য সাদুবাদ জানিয়ে আয়োজকদের। কিন্তু বাদ সেদেছে টিকিট নিয়ে।
ক্রীড়া
সংস্থা থেকে জানানো হয়,স্পন্সরও পাওয়া যায় নি। ষ্ঠেডিয়ামে এত বড় আয়োজন করা
আর্থিক সংস্থান নেই ক্রীড়া সংস্থার। এজন্য টিকেটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
ইতোমধ্যে স্টেডিয়াম মাঠের গ্যালারি ওই দুই দিনের জন্য লিজও দেওয়া হয়েছে।
এনিয়ে কুস্তি ফেডারেশন নামের একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে টিকেট ব্যবস্থা বাতিল
চেয়ে জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত আবেদনও করা হয়েছে।
সচেতন
মহল বলছেন,তৃতীয় পক্ষকে সুবিধা দিতে আর খেলামূখী মানুষদের বিমুখ করতে
কুস্তি খেলায় টিকিট থাকবে এমনটা প্রত্যাশিত নয় কারো কারন বিনে পয়সায় ও উৎসব
মুখর পরিবেশে যারা খেলা দেখতে অভস্থ সেখানে তারা টাকা দিয়ে সেই খেলা দেখতে
হবে তা মেনে নিতে পারছেন না ক্রীড়াপ্রেমিরা। তারা বলছেন এমন হটকারি
সিদ্ধান্ত খেলা দেখার আগ্রহ হারাবে। তাই টিকিট কাটার কোন সিদ্ধান্ত হলে তা
বাতিল করার দাবী জানিয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানাযায়,কুস্তিখেলা আয়োজকগন
জনপ্রতি
৫০ টাকা টিকিট দেবার সিদ্ধান্ত নেয়ার চেষ্টা করছে একটি চক্র। এক টিকিটে
একদিনই খেলা দেখতে পারবেন একজন। অন্যদিন দেখতে হলে আবারও ৫০ টাকায় টিকিট
কাটতে হবে। যেখানে গ্রাম্য এসব খেলাকে বাঁচিয়ে রাখতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের
পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন সেখানে তৃতীয় পক্ষকে সুবিধা দিতে গ্রামগঞ্জের দাওয়াতি
কুস্তি খেলার টিকিট বাণিজ্যের বিরোধিতা করে কুস্তিপ্রিয় সচেতন মানুষ এর
প্রতিবাদ জানিয়েছেন। আর সাধারণ দর্শকরা যাঁতে উৎসবমুখর পরিবেশে উন্মুক্ত
ভাবে কুস্তিখেলা দেখতে পারেন সেই দিকে প্রশাসন নজর রাখবেন আশা করছেন সচেতন
মহল।
আরও জানাযায়,জেলার সুনামগঞ্জ সদর, শান্তিগঞ্জ,
জামালগঞ্জ, বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুর উপজেলার অন্তত শতাধিক গ্রামে এ পর্যন্ত
ঐতিহ্যবাহী খুস্তি খেইড় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এক সময় সুনামগঞ্জের দুর্গম
যাতায়াতের কারণেই আগের দিন চলে আসতেন কুস্তিগীর ও তাদের লোকজন। কিন্তু এখন
যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির কারণে আর স্বাগতিক গ্রামে অতিথি হয়ে আসেন না
লোকজন। দিনক্ষণ ঠিক করেই খেলার আয়োজন করে সেখানে হাজার হাজার দর্শকের সমাগম
হয়।
ক্রীড়াপ্রেমি ও প্রতিবাদী যুবক শহীদ নূর জানান,
কুস্তি
খেলায় টিকিট সিস্টেম চালুর পাঁয়তারা মানে আমাদের ভাটি অঞ্চলের গ্রামের
মানুষদের সুস্থ বিনোদন ও পুরুনো ঐতিহ্যে আঘাত হানা। যাঁরা এটা করার চেষ্টা
করছেন এটা পকেট বাণিজ্যের একটি নতুন ধান্দা। তৃতীয় পক্ষকে সুবিধা দিতে আর
খেলামূখী মানুষদের বিমুখ করতে টিকিট চালু করা এমন হটকারি সিদ্ধান্ত নেয়া
হয়েছে বলে মনে করি। টিকিট সিষ্টেম বাতিলের দাবী করছি। যদি এরকম হয় তাহলে
আইনি প্রক্রিয়ার জন্য হাইকোর্টে-সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত যাব।
সাকিল
মিয়া, রফিক মিয়াসহ সাবেক কুস্তি খেলোয়ারা জানান,কুস্তি খেলা এটা
গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য। গ্রাম্য এসব খেলাকে বাঁচিয়ে রাখতে সংশ্লিষ্ট
প্রশাসনের পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন। সেখানে আপামর জনতার বিনোদনকে কেন্দ্র করে
অর্থ বাণিজ্যের ধান্দা করতে দেয়া যাবে না। প্রশাসন টিকেট দিয়ে খেলা দেখায়
অনুমোদন না দেয় তার দাবী করছি।
কুস্তি
খেলার দর্শক আমিন উদ্দিন রাহুল মিয়াসহ অনেকেই বলেন,কুস্তি খেলা এই অঞ্চলের
সামাজিক সংস্কৃতিতে ঢুকে পড়েছে। ভাইয়াপি কুস্তি খেলা দেখার মজাই আলাদা তা
বলে বুজানো যাবে না। সেই খেলা জেলা স্টেডিয়ামে হবে সেখানে খেলা দেখতে
শুনতেছি ৫০টাকা টিকিট কাটা লাগবে এটা একেবারেই বেমানান। কারন গ্রামের মানুষ
আয়োজন করে উৎসব মুখর পরিবেশে উন্মুক্ত স্থানে খেলা দেখে বিনা পয়সায় এটা
মাথায় রাখা উচিত সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের।
সাবেক
কুস্তিগীর বর্তমানে কুস্তিখেলার আমিন ও দক্ষিণ বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের
মেম্বার কামাল হোসেন বলেন, কুস্তি খেলা আমাদের ঐতিহ্য। দুই গ্রামের মধ্যে
ভাইয়াপি খেলা আমাদের বন্ধনকেও শক্ত করছে। জেলা স্টেডিয়ামে খেলা হবে সেখানে
টিকিট কেটে খেলা দেখতে হয় তাহলে খেলা দেখার আগ্রহ হারাবে সবাই কারন
উন্মুক্ত পরিবেশে বিনা টাকায় খেলা দেখে অভস্ত্য সবাই। সেই আনন্দ টিকিট কেটে
ষ্টেডিয়ায়ে দেখার মাঝে রাতদিন ব্যবধান।
জেলা
ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান ইমদাদ রেজা চৌধুরী বলেন,খেলা আয়োজনে
বহু টাকা প্রয়োজন সেই টাকা ক্রীড়া সংস্থার পক্ষে সেটি বহন করা কঠিন।
এছাড়াও কোন স্পন্সরও পাওয়া যায় নি। এজন্য স্টেডিয়াম গ্যালারি লিজ দেওয়া
হয়েছে। আগামী বছরে এই আয়োজন করতে স্পন্সর খোঁজা হবে। টিকিট ব্যবস্থাও
বাতিলের চেষ্টা করা হবে।
কুস্তি
প্রতিযোগিতার আহবায়ক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ জাকির
হোসেন বললেন,এ আয়োজন করতে যে খরচ হবে সেটা ক্রীড়া সংস্থা বা কুস্তি
ফেডারেশনের কাছে নেই। তাই কমিটির সবার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নামমাত্র ৫০ টাকা
মূল্যে টিকেট ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যদি এই খরচের টাকা থাকতো তাহলে আমরা
টিকিট ব্যবস্থা রাখতাম না।