সুনামগঞ্জে পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনা বিরাজ করছে। হাওরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য,নদী আর সীমান্ত এলাকার বৈচিত্র্যময় সৌন্দর্যের হাতছানি আর প্রাকৃতিক পরিবেশের কারণে পর্যটকরা এখানে ছুটে আসেন। কিন্তু নেই অবকাঠামোগত কোনো উন্নয়ন ও সুযোগ সুবিধা।
বিশেষজ্ঞ,
পর্যটন সংশ্লিষ্ট ও সচেতন মহল মনে করছেন,হাওরকন্যা সুনামগঞ্জ পর্যটন
শিল্পের জন্য খুবই সম্ভাবনার জায়গা। জেলার ছাতক,দোয়ারা বাজার,
বিশ্বম্ভরপুর,সদর উপজেলা ও তাহিরপুর উপজেলায় পর্যটন স্পষ্ট গুলো আলোচিত।
সেখানে কেবল পাঁচতারা হোটেল আর রিসোর্ট নেই। আর তৈরি করলেই জেলার পর্যটন
খাত উন্নত হবে না। তার আগে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা পর্যটন স্পটগুলো সংরক্ষণ ও
আকর্ষণীয় করে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে। নতুবা এক সময় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য
হারাবে সুনামগঞ্জ।
স্থানীয়
পরিবেশ কর্মী ও পর্যটকরা বলেন,সরকার নিরাপত্তা দেবে ও রাস্তাঘাট সংস্কার
করবে। ব্যক্তিপর্যায়ে উদ্যোক্তা বাড়াতে হবে, উন্নত যানবাহনের ব্যবস্থা করতে
হবে। আবাসন ব্যবস্থায় বৈষম্য দূর করতে হবে। তবেই ব্যাপক হারে পর্যটক
আসবেন। আর পর্যটকদের নিয়ন্ত্রিত আসা যাওয়ার ব্যবস্থা করার। হইহুল্লোর আর
বেপোরোয়া হাওরে চলাফেরা নজরদারির আওতায় আনা প্রয়োজন। না হলে দ্রুত হাওর ও
পরিবেশের ক্ষতি হবে।
পরিবেশকর্মী
আহমেদ কবির বলেন,সুনামগঞ্জের পর্যটন বলতে তাহিরপুরের টাংগুয়ার
হাওর,যাদুকাটা নদী,হাবলী জমিদার বাড়ি,বারেকটিলা,শিমুল বাগান,শহীদ
সিরাজলেকসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পষ্টের নৈসর্গিক সৌন্দর্যকেই বোঝায়। এখানে
পর্যটনের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রাকৃতিক পরিবেশের সৌন্দর্যবর্ধন না করা হয়
তবে অচিরেই ধ্বংস হবে পর্যটন স্পটগুলো। পরিবেশের প্রতি নজর দিয়ে চিহ্নিত
সমস্যাগুলো সমাধান করলে এগিয়ে যাবে।
ট্যুরিজ
সংশ্লিষ্ট সোহানোর রহমান সোহাগ বলেন,তাহিরপুরে যে সব পর্যটন স্পষ্ট রয়েছে
সেই তুলনায় হোটেল রিসোর্ট নেই। ফলে বর্ষায় নৌকা কেন্দ্রীক পর্যটনে আর্কশন
বেশী। বিদেশিদের পছন্দ ও দেশের পর্যটকদের আর্কশন করাতে এর বাহিরে গিয়েও
প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। এখানে হাওরের অন্যরকম সৌন্দর্য তাদের
আকৃষ্ট করে। কিন্তু হাওর টুরিজম সহজ না হওয়ায় অনেক সময় বিরক্ত হন দেশী ও
বিদেশি পর্যটকরা। টাংগুয়ার হাওরে ওয়াটার বেস ট্যুরিজম গড়ে তোলা যেতে পারে।
টাংগুয়ার
হাওরে পাড়ের বাসিন্দা শামসুল আলম জানান,পর্যটনের জন্য খুবই সম্ভাবনাময়
সুনামগঞ্জ জেলার তার মধ্যে তাহিরপুর উপজেলা অন্যতম। উদ্যোগতা ও পর্যটন
শিল্প নিয়ে কাজ করার লোক না থাকায় এর ফাঁকে বাইরের লোকজন এসে এখানে হাউজ
বোড তৈরী করার সুযোগ পাচ্ছে। যে কারণে স্থানীয়রা এগিয়ে আসছে না। স্থানীয়রা
এগিয়ে না এলে পর্যটনশিল্প উন্নত হবে না।
হাওর
বেষ্টিত তাহিরপুর উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী
আহমদ মোরাদ জানান,পর্যটনের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ থাকলেও সরকারি-বেসরকারি
সঠিক পরিকল্পনা আর উদ্যোগের অভাবে সে সুযোগ কাজে লাগানো যাচ্ছে না। একটু
পরিকল্পনা করে আগানো গেলে টাংগুয়ার হাওরসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পষ্টের কারনে
তাহিরপুর হতে পারে মডেল একটি শহর ও পর্যটন এলাকা। সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা
উন্নত না হওয়ায় আর ভালমানের হোটেল না থাকা বেড়াতে আসা পর্যটকরা পড়েন
বেকায়দায়। সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াতে অনেক কষ্ট হয়।
পর্যটকবান্ধব জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর হোসেন
প্রাকৃতিক
সৌন্দর্য রক্ষার জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়ে তিনি
বলেন,পর্যটন শিল্পে সুনামগঞ্জ জেলার ব্যাপক সম্ভবাবনা রয়েছে। স্থানীয়
উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসতে হবে। আমরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিব। পর্যটকদের
নিরাপত্তা দিতে আমরা বদ্ধপরিকর সে অনুযায়ী কাজ চলমান রয়েছে।