সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
নভেম্বর / ১৯ / ২০২২
চলতি বছরের ১৬ই জুন দ্বিতীয় দফা ভয়াবহ বন্যায় প্লাবিত হয়েছিল সুনামগঞ্জ জেলার সব রাস্তাঘাট। এতে শুধু সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জ সড়কের প্রায় ১শত কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। সুনামগঞ্জ জেলা সদরের সঙ্গে জামালগঞ্জ উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন আছে। ফলে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত কারী মানুষজন।
স্থানীয় এলাকাবাসী ক্ষোভের সাথে জানান,বন্যা শেষ হয়েছে কবে গত পাচঁ মাসের ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামত হয়নি। ফলে সুনামগঞ্জ জেলা সদরের সঙ্গে জামালগঞ্জ উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন আছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন উপজেলা সদর, ফেনারবাঁক ও ভীমখালীর ইউনিয়নের লক্ষাধিকেরও বেশি মানুষ।
খোঁজ নিয়ে জানাযায়,সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জ-মান্নানঘাট সড়কের দৈর্ঘ্য ৪৫ কিলোমিটার সড়কের সদর উপজেলার কাঠইর থেকে শাখাইতি ও হুসেন নগর গ্রামের কাছে বন্যার পানিতে ভেঙে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় ও খানাখন্দেরও সৃষ্টি হয়েছে। স্কুল-কলেজ ও মাদরাসায় পড়ুয়া কয়েক হাজার শিক্ষার্থী এবং রোগীদের জন্য সড়কটি এখন মরণ ফাঁদ তৈরি হয়েছে। এই সড়ক পথে সুনামগঞ্জ-সিলেটের সাথে জামালগঞ্জের, ধর্মপাশা, মধ্যনগর উপজেলার লাখো মানুষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ভাঙনের কারনে চলাচলে যাত্রীদের চেয়েও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রোগীদের নিয়ে। জামালগঞ্জ থেকে সুনামগঞ্জ অথবা সিলেটে কোন জরুরী রোগী নিয়েযেতে পারছেনা এ্যাম্বুলেন্স। এদিকে সড়কের একাধিক ভাঙা স্থানে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপর হচ্ছেন মানুষ। অনেকেই আবার সুরমা নদী পার হয়ে সাচনাবাজার দিয়ে জেলা সদরে যাতায়াত করছেন। এতে যাত্রীদের অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে, সময়ও নষ্ট হচ্ছে।
শাখাইতি গ্রামের সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক জসিম মিয়া জানান,বন্যার পর থেকে জেলা সদরের সঙ্গে এ উপজেলার সরাসরি সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকলেও সড়ক যোগাযোগ স্থাপনে সরকারি ভাবে জরুরি ব্যবস্থা নিচ্ছে না দায়িত্বশীলরা। বন্যায় সড়কের জাল্লাবাজ গ্রামের ব্রিজের দুপাশের পাকা সড়ক ভেঙে গাড়ি চলাচল বন্ধ আছে। মানুষজন বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।
জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা আরিফুর রহমান বলেন,গাড়ি না চলার কারণে মাথায় করে ভাড়ী মালামাল বাড়িতে আনতে হচ্ছে। এছাড়াও সড়কের নোয়াগাঁও থেকে জামালগঞ্জ থেকে কয়েক জায়গায় আসা যাওয়া করতে গিয়ে গাড়ি বদলাতে হচ্ছে। চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছি আমরা।
জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিশ্বজিত দেব বলেন,বন্যায় জামালগঞ্জ-সুনামগঞ্জ সড়কে ১২ থেকে ১৪ ফুট পর্যন্ত গভীর হওয়ায় এ সড়কের কয়েকটি স্থানে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এজন্য সড়ক মেরামতের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে যানবাহন চলাচলের জন্য উপযোগী করা হবে খুব শ্রীঘ্রই।
সুনামগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মাহবুব আলম জানান,বন্যায় সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জ সড়কের প্রায় ১০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। যেসব স্থানে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেটুকু জরুরি ভিত্তিতে মেরামতের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে আর মেরামত কাজ চলছে।